ভাঙনের মুখে পড়ল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে দলটির ৫৮ বিধায়ক বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করেছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে বিরোধী নেতা চেয়ে আজ বুধবার দুপুরে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠিও দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। চিঠিতে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ৫৮ বিধায়ক মিলে বিরোধী দলের নতুন মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) করেছেন আখরুজ্জামানকে। আজ বুধবার সকালে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করে এই ৫৮ বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচন করেন। স্পিকার এতে সম্মত হলে বিরোধী নেতা হবেন একসময় সিপিএমের সংসদ সদস্য থেকে তৃণমূলে যাওয়া ঋতব্রত।
বিধানসভা নিয়ে যখন এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটছে, এরই মধ্যে রাজ্যের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, সংখ্যালঘু সেল-সহ সব কমিটি—সব সংগঠনই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ভরাডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। দলটি ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ৮০টি আসন পায়।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে এক চিঠি দিয়ে জানান, এবার বিধানসভায় বিরোধি দলের নেতার আসনে বসবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু অভিষেকের সেই চিঠিতে স্বাক্ষরদানকরী হিসেবে বিধায়কদের যাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের অনেকেই দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করে শোভনদেবকে স্পিকার বানানোর প্রস্তাব স্পিকারকে দিয়েছেন।
এই ঘটনা ফাঁসের পর দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দাবি করেন তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে তা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ মমতার নির্দেশে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বিধায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানিয়েছেন। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডি ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথাও বলেছে।
ক্ষুব্ধ ৫৮ বিধায়ক আজ বৈঠক করে তাঁদের দলনেতা নির্বাচনের কথা জানান। সেখানে আরও জানানো হয়, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক হবেন সাবেক মন্ত্রী ও মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। একই সঙ্গে তাঁর ডেপুটি হিসেবে থাকবেন বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহা। স্পিকার বিদ্রোহীদের এই আবেদন গ্রহণ করে জানান, বিকেলে এ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এই বিদ্রোহীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় প্রধান হিসেবে উল্লেখ করলেও এটা যে ভাঙনের লক্ষ্মণ, এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।






