২০১৮ সালে রস+আলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম—
‘আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা প্রতি সপ্তাহে অপেক্ষা করে থাকতাম রস+আলো বের হওয়ার জন্য।’
মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম, বুড়ো বয়সে নাতি-নাতনিকে রস+আলোর গল্প শোনাব। গর্ব করে বলব—আমরা যৌবনে রস+আলো নামে একটা ফান ম্যাগাজিন পড়তাম, তোদের মতো সারা দিন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে রিল দেখতাম না। কিন্তু কিসের কী! হঠাৎ দেখি, রস+আলো কামব্যাক করেছে!
রস+আলোর বি.স. ইশতিয়াক ভাই ফোন দিয়ে বললেন, ‘সোহাইল, খবর শুনেছ?’
আমি বললাম, ‘জি ভাই, আপনার ব্রেকআপ হয়ে গেছে।’
ভাই অবাক হয়ে বললেন, ‘আরে! এই খবর তুমি কীভাবে জানো?’
‘দুনিয়ার সবাই জানে। আপনার গার্লফ্রেন্ড ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, “সব ছেলেই এক। ছেলেদের বিশ্বাস করার চাইতে রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করাও ভালো।”’
‘আর বলো না। আমাকে দিয়ে প্রেম হবে না।’
.‘সরি বলেছিলেন?’
‘সরি বলব কেন? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি।’
‘Men should apologize for being men।’
‘মজা নিয়ো না। কী করিনি ওর জন্য! ওর জন্মদিনে উইশ করার জন্য রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেগে বসেছিলাম।’
‘তারপর ১২টা এক মিনিটে উইশ করেছিলেন?’
‘না। ১১টা–৪০–এ ঘুমিয়ে পড়ছি। পরদিন সকালে উঠে দেখি, ৩১টা মিসডকল।’
‘গার্লফ্রেন্ড তো কল দেবেই, সে আশা করে বসে ছিল।’
‘গার্লফ্রেন্ডের মিসডকল না। একটা অনলাইন পেজে ফুল আর কেক অর্ডার করেছিলাম, ওদের রাইডারের মিসডকল।’
‘মন খারাপ কইরেন না। একটা প্রেম গেছে, আরেকটা আসবে। প্রেম হলো সিজনাল জ্বরের মতো—জীবনে অনেকবার আসে।’
‘আচ্ছা, বাদ দাও। শোনো, রস+আলো তো ফিরল। তোমার একটা দুর্দান্ত রম্য গল্প লাগবে।’
‘ঠিক আছে ভাই, লিখে দেব।’
‘তাড়াতাড়ি দিতে হবে। টাইম কম।’
‘কম টাইমে তো দুর্দান্ত গল্প লেখা ঝামেলা। তা–ও চেষ্টা করব এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার।’
.‘তোমাকে কী বললাম? টাইম কম। এক সপ্তাহ সময় নাই।’
‘ওকে, দুই-তিন দিনের মধ্যে দেওয়া যায় কি না, দেখি।’
ইশতিয়াক ভাই হতাশ গলায় বললেন,
‘সোহাইল, তুমি বুঝতে পারছ না। টাইম নাই। রাত ১১টার মধ্যে গল্প জমা দিতে হবে।’
‘আজ রাত ১১টা? এখন ৯টা বাজে! দুই ঘণ্টা আছে হাতে মাত্র?’
‘তোমার জন্য সময় বাড়িয়ে দিচ্ছি। সাড়ে ১১টার মধ্যে দাও।’
‘ভাই, আপনি মনে হয় ভুল করে চ্যাটজিপিটিকে মেসেজ দিতে গিয়ে আমাকে দিয়ে দিয়েছেন।’
‘চ্যাটজিপিটি দিয়ে ট্রাই করেছিলাম। ভালো গল্প পাইনি বলেই তো তোমার কাছে…’
‘যাক, চ্যাটজিপিটি তাহলে আমাকে রিপ্লেস করতে পারেনি!’
ইশতিয়াক ভাই দুঃখী গলায় বললেন, ‘আমাকে ঠিকই রিপ্লেস করে দিল! আমার গার্লফ্রেন্ড বলে, আমি নাকি চ্যাটজিপিটির মতো তার কেয়ার নিতে পারি না। চ্যাটজিপিটি নাকি আমার চেয়ে তাকে বেশি সময় দেয়। সবাই বলে, মানুষ চ্যাটজিপিটির কাছে জব হারাবে—আর আমাকে দেখো, আমি প্রেম হারিয়ে বসে আছি। যাহোক, এখন টাইম নষ্ট না করে দ্রুত একটা দুর্দান্ত রম্য গল্প লিখে দাও।’
.ফোন রেখে গল্প লিখতে বসলাম। এত কম সময়ে কীভাবে লিখব, বুঝতে পারছি না। এমন সময় একজনের কথাই মাথায় এল—বিপদের বন্ধু, চ্যাটজিপিটি।
ওকে মেসেজ দিয়ে বললাম, ‘রস+আলো ফিরে এসেছে। দুর্দান্ত একটা রম্য গল্পের আইডিয়া দাও।’
চ্যাটজিপিটি বলল, ‘রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনের আগে কী বলে আর জেতার পরে কী করে—এটা নিয়ে লেখো।’
বললাম, ‘ওহে চ্যাটজিপিটি, এটা বাংলাদেশ। নেতাদের নিয়ে ফান করা যাবে না। রিস্ক আছে।’
‘তাহলে একজন সরকারি চাকরিজীবীকে নিয়ে লেখো। ঘুষ খেলেই তার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। সে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলে—একবারে এক লাখ টাকা ঘুষ না খেয়ে আধা ঘণ্টা পরপর ২০ হাজার টাকা করে খেতে।’
‘এটাও লেখা যাবে না। আমলারা মাইন্ড করবে।’
‘আচ্ছা, লেখো—ভাইরাল না হলে পুলিশ আসামি ধরছে না। বলছে, আসামি ধরার জন্য অন্তত ১০ হাজার লাইক আর ১ হাজার শেয়ার লাগবে।’
‘পাগল নাকি! এটা লিখলে পুলিশ আমাকেই ধরবে।’
‘একজন ডাক্তার আর একজন ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে লেখো।’
‘দুই প্রফেশনের লোকেরাই রাগ করবে। থাক, তোমাকে আর কিছু বলতে হবে না।’
.চ্যাটজিপিটি থেকে কোনো হেল্প না পেয়ে ইশতিয়াক ভাইকে আবার নক দিলাম। বললাম, ‘কী লিখব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আপনি আইডিয়া দেন।’
‘ট্রেন্ডি কোনো টপিক নিয়ে লেখো।’
‘ট্রেন্ডি কিছু তো নাই। তেলের সংকট, পেট্রলপাম্পে বিশাল লাইন, গরম—আমাদের গেছে যা ট্রেন্ড, একেবারেই সব গেছে!’
‘ভাবো। সব আমাকে বলে দিতে হবে কেন? আমি কি জিপিটি? জিপিটি আমার প্রেমটা…’
‘ওকে ওকে ভাই, থামেন! আমিই ভাবি।’
.ফোন রেখে ভাবতে ভাবতে রাত ১২টা বেজে গেল। কোনো গল্পই লিখতে পারলাম না।
ইশতিয়াক ভাই আবার কল দিলেন, ‘কী ব্যাপার, গল্প কই?’
‘ভাই, এবার হবে না। নেক্সট সংখ্যায় লিখব।’
‘তোমার থেকে এটা আশা করিনি।’
‘কী করব বলেন! যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ—আইডিয়ার সাপ্লাই নাই।’
ইশতিয়াক ভাই রাগী গলায় বললেন, ‘বাদ দাও। লেখা লাগবে না।’
‘আচ্ছা ভাই, আরেকটা কথা—’
‘বলো।’
‘আপনার গার্লফ্রেন্ড তো এখন সিঙ্গেল… আমি কি ওকে মেসেজ দিতে পারি?’
আশ্চর্য! লোকটা আমাকে ব্লক করে দিল কেন—বুঝলাম না!
.আমি জেলখাটা পাবলিক: পরীমনি





