জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান–এর ওপর নতুনহাট পশুর হাটে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে টানা দুই দিন বিক্ষোভ চলছে।
গতকাল সোমবার (২৫ মে) তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জেলা সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে মাঝারি আকারের বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে আবার হাসপাতাল চত্বরে এসে শেষ হয়।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে আরেকটি বড় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজলা স্কুলের সামনে এসে শেষ হয়। উভয় মিছিলেই হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা (এজাহার অনুসারে): গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে বেলা আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় অধ্যক্ষ শামছুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গরু কেনার উদ্দেশ্যে নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে নতুনহাট পশুর হাটে যান যুবদল নেতা মোক্তাদুল হক আদনান।
সেখানে উপস্থিত ক্রেতা-বিক্রেতারা তাকে অভিযোগ করেন যে, হাট ইজারাদার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামস মতিন ও তার লোকজন সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতি গরুর জন্য বেআইনিভাবে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা করে জোরপূর্বক অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে।
আদনান এ বিষয়টি জেলা পরিষদ প্রশাসককে অবহিত করে হাটের মাইকে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করার অনুরোধ জানালে শামস মতিন তার হাতে থাকা সামুরাই দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। পরবর্তীতে মামুন ওরফে ঘোড়া মামুন পিস্তল দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করেন। সাদাত মতিন লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে আদনানের ডান কাঁধ ও হাত গুরুতর জখম হয়। আসামি মিলন পিছনের পকেট থেকে ৩ লাখ টাকা এবং কানা জুয়েল সামনের পকেট থেকে ২ লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। অন্যান্য আসামিরা কিল, ঘুষি ও রড দিয়ে বর্বরোচিত মারধর করে। বর্তমানে মোক্তাদুল হক আদনান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হাটে চলমান জালিয়াতি: শামস মতিনের চক্র শুধু অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে না, হাটের টোল আদায় (স্থানীয়ভাবে ‘গরুর ছাপ’) এর রসিদেও বড় জালিয়াতি করছে। রসিদের টাকার অঙ্ক লেখার ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়, যাতে অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা গোপন করা যায় এবং সরকারকে কম রাজস্ব দেখানো যায়।
মামলার তথ্য: এ ঘটনায় মোক্তাদুল হক আদনান বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা নং-৪১ (তাং ২৪/০৫/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে। প্রধান আসামি শামস মতিনসহ মামুন ওরফে ঘোড়া মামুন, সাদাত মতিন, মিলন, কানা জুয়েল, আমিনুলসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, গোলাম রাব্বানী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রধান, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু, রেজহাত হোসেন রনি, রাসেল তালুকদার, মহিদুল ইসলাম রাজিব, আতিকুর রহমান সোহাগ, এনায়েত মওলা সবুজ, যুবদল নেতা আকাশ এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছোহরাফ হোসেন ইমনসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, নতুনহাট পশুর হাটে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত টোল আদায় ও রসিদ জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতা মোক্তাদুল হক আদনানের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা শামস মতিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে চিরতরে বহিষ্কারের দাবি জানান।
বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি করে হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ ঘটনায় জয়পুরহাটের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।






