জয়পুরহাটের নতুনহাট পশুর হাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রভাবশালী নেতা শামস মতিনের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ অতিরিক্ত টাকা আদায়, রসিদ জালিয়াতি এবং রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ক্রেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি পশু কেনাবেচায় সরকারি নির্ধারিত গেট পাস ফি ৬০০ টাকা হলেও শামস মতিনের নিয়োগকৃত আদায়কারীরা জোর করে প্রতি রসিদে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায় করছে। যারা এই অবৈধ টাকা দিতে অস্বীকার করে, তাদের হুমকি, হেনস্তা ও শারীরিক হয়রানির শিকার হতে হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো রসিদ জালিয়াতি। সংগৃহীত রসিদগুলোতে দেখা গেছে, ডিজিটাল ও হাতে লেখা উভয় ধরনের রসিদেই টাকার অঙ্কের ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত লুটের টাকা গোপন করা এবং সরকারের কাছে কম রাজস্ব দেখানোর নোংরা কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ আরও গুরুতর। অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা জানিয়েছেন, শামস মতিনের প্রভাব এতটাই বেশি যে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। যারা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছিলেন, তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে এখনও ভয়ে চুপ করে আছেন। স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা, তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী লোকজনের কারণে প্রশাসনও অনেক সময় নীরব থাকে।
এছাড়া হাটে তার নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় যে অনেকে মনে করেন এটি শুধু টাকা লুট নয়, এক ধরনের সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তার। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “এটা প্রকাশ্য ডাকাতি। শামস মতিন ও তার চক্র সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভরছে।”
ভুক্তভোগীরা জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙার এবং শামস মতিনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে এই অনিয়ম ও ভয়ের রাজত্বের অবসান ঘটাবে।






