উত্তরাঞ্চলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নে অবদান রাখছে ‘নাবিল গ্রুপ’। পবিত্র ঈদুল আজহা, খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা নিয়ে মুক্তকণ্ঠর সঙ্গে কথা বলেছেন নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শামসুল হক মো. মিরাজ

.

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কৃষি-শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে আপনাদের অর্জন কতটুকু এবং কোরবানির বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিকে কীভাবে দেখছেন?

.

মো. আমিনুল ইসলাম: ২০২৬ সালের কোরবানির বাজারে উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান পশু উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত করেছে। নাবিল গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, ফিড, খামার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে, যা উত্তরাঞ্চলের হাজারো খামারিকে সংগঠিত বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। 

কোরবানির ঘিরে এবারের অর্থনীতি হবে আরও পরিকল্পিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দেশীয় উৎপাদনভিত্তিক। বাজারে দেশীয় পশুর সরবরাহ সন্তোষজনক এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্থিতিশীল বাজার তৈরি হবে। নাবিল গ্রুপ শুধু ব্যবসায়িক অংশীদার নয়, বরং কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। কোরবানিতে আমরা প্রায় ২৫০টি সুস্থ গবাদিপশু বাজারে সরবরাহ করেছি।

.

উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পশু পরিবহনে আপনারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন এবং ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন এই সংকটে কতটা সহায়ক হতে পারে?

.

মো. আমিনুল ইসলাম: উত্তরাঞ্চল থেকে বড় ভোক্তা বাজারগুলোতে পশু পরিবহনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো দীর্ঘ যাত্রা, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, তীব্র যানজট এবং পথে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে কোরবানির সময়ে সড়কপথে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, যা সময় ও খরচ দুই দিক থেকেই খামারিদের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে রেলওয়ের ‘ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন’ একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। এটি চালু হলে দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে পশু পরিবহন সম্ভব হবে।

.

পশুর উৎপাদন খরচ কমাতে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ কোরবানি নিশ্চিত করতে নাবিল গ্রুপ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?

.

মো. আমিনুল ইসলাম: বৈশ্বিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব গোখাদ্যশিল্পেও পড়েছে। এই বাস্তবতায় নাবিল গ্রুপ উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ সাপ্লাই চেইন, আধুনিক ফিড ফর্মুলেশন এবং স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

আমরা খামারিদের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ফিড নিশ্চিত করার পাশাপাশি পশু পালন বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি সহায়তা এবং সঠিক ফ্যাটেনিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছি। 

.

আপনাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল অ্যাগ্রো-বিজনেস মডেলটি এবার ক্রেতাদের জন্য নতুন কী সুবিধা নিয়ে আসছে?

.

মো. আমিনুল ইসলাম: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন ঐতিহ্যবাহী কোরবানির বাজারকে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করে তুলছে। সরকারের কর মওকুফের এই উদ্যোগ ডিজিটাল অ্যাগ্রো-সেক্টরে গতিশীলতা আনবে।

নাবিল গ্রুপের ডিজিটাল অ্যাগ্রো-বিজনেস মডেলে এবার ক্রেতারা ঘরে বসেই পশুর লাইভ ভিডিও, প্রকৃত ওজন, স্বাস্থ্যগত তথ্য এবং খামারের বিস্তারিত বিবরণ দেখতে পারবেন। এ ছাড়া ক্রেতাদের সুবিধার্থে অনলাইন বুকিং, নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট, নির্ধারিত সময়ে হোম ডেলিভারি এবং বিক্রয়-পরবর্তী কাস্টমার সাপোর্টের সুবিধাও থাকবে। আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি ক্রেতার আস্থা বাড়াতে এবং খামারিদের জন্য একটি ন্যায্য ও বিস্তৃত বাজার তৈরি করতে।