এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ, তাঁর ভাই আবদুল্লাহ হাসানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত–১–এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন।
অর্থঋণ আদালত চট্টগ্রামের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের করা মামলায় আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই ১১ জনকে পাঁচ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
.চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এস আলম গ্রুপ দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে গত এক দশকে ব্যাংক খাত দখল, বিপুল ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রুপটি নামে–বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ কয়েক দফায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে এসব ঋণের বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়।
.‘এই, আপনারা কারা’, এটি একটি ব্যাংক দখলের গল্প.২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একের পর এক মামলা করে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাইফুল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আবার ব্যাংকের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় ৬৮ জনকে আসামি করা হয়।
.ইসলামী ব্যাংকে এস আলমেরএক রহস্যময় সফর.
বর্তমানে এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধার, সম্পদ জব্দ ও অর্থ পাচারের তদন্ত নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। বিভিন্ন ব্যাংকের নতুন পর্ষদ ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিলেও বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।






