চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে না পেরে প্রতিবাদী গান গেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আদালত ভবনের আইনজীবী শাপলা ভবনের প্রবেশমুখে বসে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। পাশেই জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে চলছিল ভোট গ্রহণ।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আইনজীবীদের একটি দল সিঁড়িতে বসে ‘ভোট ডাকাত, ভোট চোর, কিছুই রবে না/ ভোট চোরেরা ভেসে যাবে বঙ্গোপসাগরে’—এমন গান পরিবেশন করছেন। এ ছাড়া দিনভর আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভও করেন আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা।

এর আগে গতকাল বুধবার নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে আদালতপাড়ায় কালো পতাকা প্রদর্শন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনপ্রক্রিয়া একতরফাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা ‘ভুয়া নির্বাচন’ ও ‘অটো নির্বাচন’ স্লোগান দেন এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জিয়া উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সমিতির ১৩৩ বছরের ইতিহাসে কখনো ভোটবিহীন বা ‘অটো কমিটি’ গঠনের নজির নেই। অতীতেও, এমনকি করোনাকালেও সমিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও ইতিমধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সমিতির ঐতিহ্য নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

৪ মে নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দিন তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ নেই। তাই তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগও নেই।