অতীতের রাজনৈতিক আক্রোশ এবং অন্যায় সিদ্ধান্তের অবসান ঘটিয়ে হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে জয়পুরহাট মহাবিদ্যালয় (সাবেক জয়পুরহাট শহীদ জিয়া কলেজ)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও কর্মচারীগণের সাথে এক তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ সওদাগর মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি জনাব মোক্তাদুল হক আদনান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলার স্বনামধন্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম 'শহীদ জিয়া কলেজ' থেকে পরিবর্তন করে 'জয়পুরহাট মহাবিদ্যালয়' রাখা হয়েছিল। সেই অন্যায় সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় বর্তমান সভাপতি মোক্তাদুল হক আদনানকে সেসময় চরম নির্যাতন, জেল ও জুলুমের শিকার হতে হয়েছিল। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আজ স্ব-প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে ফিরে এসে তিনি কলেজের হারানো পরিচয় দ্রুত পুনরুদ্ধারের কথা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, কলেজটিকে সরকারি করার প্রক্রিয়া এবং আগের নাম ফিরিয়ে আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের স্থান নেই। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, "নাম পরিবর্তন বা সরকারিকরণের জন্য কোনো মন্ত্রী বা প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও দিতে হবে না। সম্পূর্ণ বিনা খরচে ইনশাআল্লাহ এই কলেজের নাম পরিবর্তন হবে এবং সরকারি হবে।"

কলেজটিকে আগামী দিনে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সভাপতি। শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্ববোধের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। যেসব প্রবীণ শিক্ষক শীঘ্রই অবসরে যাবেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও গাইডলাইন অনুসরণ করে কলেজ পরিচালনার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

সভায় ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ কলেজের একাডেমিক উন্নয়ন, লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বই ক্রয় এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষক, কর্মচারী এবং গভর্নিং বডির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয়পুরহাট শহীদ জিয়া কলেজ আগামী দিনে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে— সবার ঐকান্তিক দোয়ার মধ্য দিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেই সভার সমাপ্তি টানা হয়।