অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অ্যালামনাইদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে থাকলেও শিকড়ের সঙ্গে বন্ধন অটুট রাখার এই উদ্যোগে রিজেন্সি পার্ক রিজার্ভে পরিবার-পরিজনসহ প্রায় ৭০ জন অংশ নেন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৭ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ২০টি ব্যাচের চুয়েটিয়ানরা একত্র হয়ে সেই দৃশ্যকে রঙিন করে তোলেন।

চুয়েটিয়ানস ইন অ্যাডিলেড (CUETians in Adelaide) এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যা কেন্দ্রীয় সংগঠন চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়ার (CUETians in Australia Incorporation) সঙ্গে যুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম। অস্ট্রেলিয়ায় চুয়েট অ্যালামনাইদের এই নেটওয়ার্ক একটি নিবন্ধিত অলাভজনক কাঠামোর অধীনে চলে। বাংলাদেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজন উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে। শিশু, নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা গেমস ও প্রতিযোগিতা পরিবেশকে প্রাণময় করে। সুস্বাদু লাঞ্চ, নানা খাবার এবং উপহার বিতরণ আনন্দ বাড়ায়। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল অংশগ্রহণকারীদের হাসিমুখ ও আন্তরিক উল্লাস।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ মাইলস্টোন সেলিব্রেশন সেশন, যেখানে চুয়েটিয়ানদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সাফল্য তুলে ধরা হয়। এটি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এবং সবার মধ্যে গর্ব জাগায়।

এছাড়া হয় মেন্টর-মেন্টি ও সাপোর্ট সেশন, যেখানে অভিজ্ঞ চুয়েটিয়ানরা নবাগত ও তরুণ পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ শেয়ার করেন। কার্যকর মেন্টর-মেন্টি সংযোগ গড়ে তোলায় সহায়তা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের বাস্তবতা নিয়ে এ সেশন অত্যন্ত উপকারী ছিল।

পরিচিতি ও স্মৃতিচারণায় চুয়েট ক্যাম্পাসের জীবন ফিরে আসে। অনেকের মনে জাগে পুরোনো দিনের স্মৃতি—যেন আবার ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়া। এটি কেবল অনুষ্ঠান নয়, স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও শিকড়ের পুনর্মিলন।

অংশগ্রহণকারীদের অভিমত

লকহিড মার্টিন অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত সিস্টেমস ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার স্টাফ ড. সৌমেন বড়ুয়া বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। চুয়েট শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের অংশ। অ্যাডিলেডে এত চুয়েটিয়ানকে একসঙ্গে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।’

অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত সিনিয়র লেকচারার এবং চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. তাফসিরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের মিলনমেলা চুয়েট অ্যালামনাই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে। এটি শুধু স্মৃতিচারণা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, মেন্টরশিপ ও কমিউনিটি সাপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক (শিক্ষা ছুটিতে) মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের মতো নবাগতদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সিনিয়র চুয়েটিয়ানদের কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ পাওয়া যায়, যা প্রবাসে ক্যারিয়ার গঠন ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক।’

চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি এবং ফাভেল ফাভকো ক্রেইনসের প্রিন্সিপাল ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, ‘অ্যাডিলেডে এমন একটি সফল আয়োজন দেখতে পেরে আমি আনন্দিত। চুয়েটিয়ানস ইন অস্ট্রেলিয়া দিন দিন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হচ্ছে। আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।’

সম্মিলিত প্রচেষ্টা

এই সফল আয়োজনের পেছনে নিবেদিত সংগঠকদের অবদান। তাঁদের মধ্যে ড. তাফসিরুজ্জামান, ড. সৌমেন বড়ুয়া, আবদুল্লাহ আল ফয়সাল উদয়, ড. মো. একরামুল হোসেন, ড. তুষার আহমেদ, মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, চন্দ্রিকা বড়ুয়াসহ অনেকে। স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রচেষ্টাও প্রশংসনীয়। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে দিনটি হয় স্মরণীয়।

আগামীর প্রত্যাশা

প্রবাসী চুয়েটিয়ানদের এ ধরনের উদ্যোগ পেশাগত নেটওয়ার্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সহযোগিতা বাড়ায়। অ্যাডিলেডের মিলনমেলা প্রমাণ করে, দূরত্ব সত্ত্বেও বন্ধন অটুট। সবাই ভবিষ্যতে আরও আয়োজনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

  • লেখক: তাফসিরুজ্জামান, সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া