সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়। কিন্তু রাস্তায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নীলা বুঝতে পারে, আজকের শহরটা আগের মতো আর নেই।
রিকশার লাইনে মানুষের ভিড়, বাসস্ট্যান্ডে ধাক্কাধাক্কি। তবে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ে পেট্রলপাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন।
ছোট ভাইকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে নীলা দেখে, একটা পাম্পের সামনে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে। কারও হাতে বোতল, কারও ক্যান, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।
‘তেল নেই আপা,’ একজন ড্রাইভার বিরক্ত গলায় বলল, ‘দুই দিন ধরে ঘুরতেছি।’
নীলা কিছু বলে না। মনে মনে ভাবে—এই শহরে এখন সময়ের সঙ্গে ধৈর্যও যেন ফুরিয়ে আসছে।
বিকেলে খবরের কাগজ খুলতেই শিরোনামে চোখ আটকে যায়।
‘ধর্ষণ, হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা—ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ’
নীলার বুকটা হালকা কেঁপে ওঠে। প্রতিদিনই এমন খবর। কখনো নাম জানা যায়, কখনো অজানা থেকে যায়। কিন্তু প্রতিটি খবরের পেছনে একটা পরিবার ভেঙে যায়—এটা কেউ শিরোনামে লেখে না।
পাশের বাসার আন্টি বলছিলেন, ‘এখন তো মেয়েদের একা বের হওয়াই ভয় লাগে।’
নীলা চুপচাপ শোনে। সে নিজেও প্রতিদিন বের হয়, কিন্তু ভেতরে একটা অজানা ভয় তাকে ঘিরে ধরে—বাসে উঠলে, রাস্তা পার হলে, সন্ধ্যা নামলে।
রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নীলা শোনে, দূরে কোথাও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। হয়তো আবার কোনো দুর্ঘটনা, কোনো আহত মানুষ, কোনো কান্না।
তার মনে হয়, শহরের প্রতিটি শব্দ এখন ক্লান্ত—হর্ন, চিৎকার, খবরের শিরোনাম, মানুষের হতাশা।
হঠাৎ ছোট ভাই বলে ওঠে, ‘আপু, কাল আবার স্কুলে যাব তো?’
নীলা হালকা হেসে বলল, ‘যাবি না কেন?’
এই ছোট্ট প্রশ্নটাই নীলার ভেতরে একটু আশা জাগায়।
এসব অস্থিরতার মধ্যেও জীবন থেমে থাকে না। মানুষ বাঁচে, স্বপ্ন দেখে, আবার নতুন করে শুরু করে।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com






