কানাডায় বসন্তের আগমনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে ম্যানিটোবার বাংলাদেশি কমিউনিটি একটি রঙিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কানাডায় ২০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ শীতের পর বরফ গলা এই সময়ে ২৯ মার্চ (রবিবার) অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় উৎসবের আমেজে।

কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানিটোবা (সিবিএ ম্যানিটোবা) এবং অন্যান্য কমিউনিটি সংগঠনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি হয়। এটি ম্যানিটোবার উইনিপেগের ওয়েস্ট এন্ড কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যানিটোবার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ এবং তাদের নতুন প্রজন্মের সদস্যরা অংশ নেন।

সিবিএ ম্যানিটোবার সভাপতি ড. হারুনুর রশিদ সভাপতিত্ব করেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল আহমেদ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। ভূমি স্বীকৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর কমিউনিটির শিশুরা বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীত গেয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।

ব্র্যান্ডন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. রাশেদ নেকভি মূল বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উইনিপেগ সাউথের সংসদ সদস্য টেরি ডুগুইড, উইনিপেগ ওয়েস্টের সংসদ সদস্য ডাগ আইওলফসন এবং ম্যানিটোবা প্রদেশের ওয়েভারলি এলাকার এমএলএ ডেভিড প্যাঙ্ক্রাটজ। তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং ম্যানিটোবায় বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।

কমিউনিটির বিশেষ অতিথি ব্র্যান্ডন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মৌসুমি মজুমদার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, গণতন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাবলি তুলে ধরেন।

সংস্কৃতি সম্পাদক প্রজেশ কুমার সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন। ম্যানিটোবা বাংলা লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি করে মনোহর উপস্থাপনা দেন।

এছাড়া কমিউনিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ড. নুরুজ্জামান খান, ড. আমজাদ হোসেন, আফরুজা ইসলাম, নাসরিন মাসুদ, আবু কবির রাজিব ও জুহাইর সামিন রাহাত।

শেষ পর্যায়ে সহসভাপতি আবদুল বাতেন উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কমিউনিটির বিভিন্ন বিক্রেতা দর্শকদের জন্য নানা সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করেন, যা সকলের মধ্যে অতিরিক্ত উল্লাস যোগায়।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com